ইউওওর অনেক শিক্ষার্থী প্লেবয়ের মাধ্যমে পাওয়া নতুন এই খ্যাতিকে আনন্দচিত্তেই গ্রহণ করেছে; বিশেষত সজিন-মেইটল্যান্ড হল নামের সহশিক্ষা ছাত্রাবাসের অধিবাসীরা, যার ডাক নাম দ্য জু বা চিড়িয়াখানা। প্লেবয় বলছে, ছাত্রাবাসটি পার্টি আয়োজনে কুখ্যাত। এই ছাত্রাবাসের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ১৯ বছরের রেইকো ম্যাকলগিন বলেন, আমি যাদের সঙ্গেই এ বিষয়ে কথা বলেছি, তারা সবাই গর্বই বোধ করছে। তিনি আরও বলেন, উদ্দাম পার্টি আয়োজনে এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে যা বলা হয়, তা অনেকটাই অতিরঞ্জন। আমি মনে করি না অন্য স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এখানে বেশি জঘন্য কিছু ঘটে। অতীতের ভাবমূর্তির ভিত্তিতে এখনো মন্তব্য করা হচ্ছে।
প্লেবয় জানায়, লন্ডন ওন্টারিও স্কুলটির পার্টি হ্যালোইন আর সেন্ট প্যাট্রিক দিবসে অন্যান্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি উত্তেজক, উদ্দাম। আনন্দ-ফূর্তিতে ভরা এসব পার্টির পরে তৈরি হয় একরাশ আসবাব ও কাচের স্তূপ। প্রতি সাপ্তাহিক ছুটিতেই পার্টির আয়োজন হয়, যা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণেরও বাইরে চলে যায়। ২০০৫ সালে সজিন-মেইটল্যান্ড হলের এক পার্টিতে বেসামাল এক অংশগ্রহণকারীকে তার কাপরচোপড় খুলে ফেলতে দেখা যায় এক আলোকচিত্রে, যা পরে ইন্টারনেটেও ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে। প্রশ্ন তোলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ধরনের উম্মত্ত পার্টি নিয়ন্ত্রণে কী করে? এ সময় তাদের ভূমিকাই-বা কী থাকে?
ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন ওন্টারিওর প্রশাসন বলছে, তারা প্লেবয়ের এই তালিকায় অবাক হয়েছে। অতীতে পার্টি স্কুল বলে কিছু দুর্নাম থাকলেও এখন আর সে অবস্থা নেই বলে তাদের দাবি। উপাধ্যক্ষ জন ডোয়ের্কসেন বলেন, আশি ও নব্বইয়ের দশকে এমন কিছু পার্টির আয়োজন হতে পারে। এখন আর তেমনটি ঘটার সুযোগ নেই। এখন শিক্ষার্থীদের পার্টিগুলো হয় অনেক নিয়ন্ত্রিত। কয়েক বছর ধরেই কর্তৃপক্ষ পার্টি আয়োজনে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের আরও সংযত জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে। ছাত্রাবাসগুলোর আশপাশে পুলিশের নিয়মিত টহলও জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্লেবয়ের ভিত্তিহীন তালিকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। এই বয়সের শিক্ষার্থীরা প্লেবয়ের কথা শুনে কোনো সিদ্ধান্তও নেবে না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, কয়েক বছর ধরেই কানাডায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পার্টি সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দাম কিছু পার্টিতে আপত্তিকর অনেক ঘটনা ঘটছে, যা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এতে সরকার ও সুশীল সমাজ উদ্বেগও প্রকাশ করে। প্লেবয়ের তালিকায় ইউওওর নাম ওঠা যে এই বিতর্ককে আরও জোরাল করবে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
[সূত্রঃ এই সংবাদটি কানাডা‘র বাংলা সাপ্তাহিক বেঙ্গলি টাইমস-এর ওয়েব সাইট thebengalitimes.ca থেকে হুবহু গংগৃহীত।]
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন